Breaking News

“দুঃখ, দূর্দশা ও চরম হতাশায় কাটছে এসিটি শিক্ষকদের জীবন”

নাহিদ জামান, মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধিঃ প্রান্তিক পর্যায় মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নেরর লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের অধীনে ২০১৫ সালে ৩বছর মেয়াদী বাংলাদেশের ৬৪ জেলার ৬৪ উপজেলায় ৩টি ধাপে নিয়োগ করা হয় প্রায় ৫২০০ অতিরিক্ত শ্রেণী শিক্ষক। মন্ত্রনালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে এর আওতায় আনা হয়েছে প্রায় ২১০০টি প্রতিষ্ঠান। পিছিয়ে পরা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান বাড়াতেই শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের এমন উদ্যোগ। যে সকল প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বিষয় ইংরেজী, গনিত, বিজ্ঞান শিক্ষক নেই অথবা প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত, সে সকল পিছিয়ে পরা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে নিয়োগ প্রদান করা হয় অতিরিক্ত শিক্ষকদের। যার অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই দূর্গম এলাকায়। ভবিষৎ প্রজন্মকে শতভাগ শিক্ষিত ও গুনগত শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে নিরলস পরিশ্রম করেছে প্রতিটি শিক্ষক। একই সাথে পছন্দের পেশা হিসেবে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন করতেও চেয়েছে শিক্ষকতার মাধ্যমে। যে শিক্ষকগন দেশের নামি-দামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছে সর্বোচ্চ নম্বর নিয়ে। তারই ফল সরূপ এই শিক্ষকগন প্রশংসিত হয়েছে দেশের সকল মহলে, এমনকি দেশের বাইরেও মডেল শিক্ষক খেতাব অর্জন করেছেন এই শিক্ষকগন। শিক্ষার্থীদের ঝড়েপরা, শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়ন ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাশের হার বৃদ্ধিতে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছে এই সকল শিক্ষক। এর ফল সরূপ সন্তুষ্ঠ হয়ে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক এর একটি প্রতিবেদনে সেকেন্ডারি এডুকেশন কোয়ালিটি অ্যান্ড অ্যাকসেস এনহান্সমেন্ট প্রজেক্ট (সেকায়েপ) এর শিক্ষকদেরকে মডেল শিক্ষক ঘোষনা করে। তারই ধারাবাহিকতায় ওয়ার্ড ব্যাংক আরও একটি প্রোগাম সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভলমমেন্ট প্রোগ্রাম (এসইডিপি) হাতে নেয়। যেখানে সমাপ্ত সেকায়েপ প্রকল্পের সকল শিক্ষকদেরকে এই প্রোগ্রামের আওতায় এনে পরবর্তিতে স্হায়ী করার কথাও প্রতিবেদনে বলা আছে। যা সমাপ্ত সেকায়েপ ম্যানুয়ালেও লেখা ছিল। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ট্রেনিং/কর্মশালায় স্হায়ী করনের কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ এসিটি এসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক সম্রাট রোমান (এসিটি বিজ্ঞান)। তিনি আরও বলেন সেকায়েপ প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে শেষ হলেই খুব তাড়াতাড়িই এসইডিপি এর বাস্তবায়নের কথা ছিল। এক সাক্ষাতকারে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুুরুল ইসলাম বলেন এই মেধাবী শিক্ষকদের স্হায়ী করা অত্যাবশ্যক। তিনি আরও বলেন চাইলে ৭দিনেই এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব। আইনী জটিলতা এগুলো কোন বিষয়ই না বলে তিনি মনে করেন। আরও কয়েকজন শিক্ষাবিদ এই মেধাবী শিক্ষকদের স্হায়ী করার বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেছেন। এসিটিদের স্হায়ী করন অথবা এসইডিপিতে অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এই ১৯মাসে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজ করতে দেখা গেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকতাদের। কিন্তু তার বাস্তবায়ন এখনও আলোর মুখ দেখেনি। এসিটিদের ফাইলটি হয়ত বন্দি হয়ে আছে কর্মকর্তাদের দিমুখী আচরনে, চাপাপড়ে আছে নানান ফাইলের তলানিতে। মন্ত্রনালয়ের এই দিমুখী আচরনের বলি হয়ে আজও ঝুলে আছে প্রায় ৫২০০এসিটি শিক্ষদের ভাগ্য। আজও অনেক শিক্ষক এই পেশাকে ভালবেসে বিনা বেতনে পাঠদান করে যাচ্ছে আর চাতকের মত চেয়ে আছে, কবে নোটিশ হবে? কতদিন গেলে বেতন পাব? কতদিন গেলে পরিবার নিয়ে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারব? কতদিনে ঘুচবে এই গ্লানি? কতদিন আর সমাজ আমাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করবে? বড়ই লজ্জার বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে এই প্রশ্নগুলো। এই প্রশ্নগুল রইল জাতির বিবেকের কাছে। যা প্রতিটা এসিটির প্রশ্ন। এদেশ নাকি শিক্ষা বান্ধব, অথচ দেশের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী মেধাবী শিক্ষরাই আজ লাঞ্চিত সমাজের কাছে, অবহেলিত পরিবারের কাছে, হাসির পাত্র বন্ধু মহলে। আর কত দেরি পাঞ্জেরী? মেঘে মেঘে যে বলা ফুড়িয়ে যায়। এসব ভাবতে ভাবতে কয়েকজন এসিটি শিক্ষক আজ মানষিক ভারসাম্যহীন, যাকে পাগল বলে ডাকা হয়। অথচ এই শিক্ষকগনই নিয়মিত ক্লাসের পাশাপাশি নিয়েছেন ৩৭২০০৯৪টি অতিরিক্ত ক্লাস। যার কারনে বন্ধ হয়েছিল প্রতিষ্ঠান ভিত্তিক কোচিং বানিজ্য। হাসি ফুটেছিলো শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের মুখে। কারন কোচিং হয়ে পড়েছিল ভয়ংকর রূপে টাকা কামানোর স্হান। যা গরিব মেধাবীদের ধংসের পথে ঠেলে দিচ্ছিল দিন দিন। শুধু তাই নয় হাজার হাজার টাকার বিনিময়ে প্রশ্নফাঁস করে যারা কোটিপতি, তারাই এইসব কোচিং বানিজ্যে যুক্ত। যা মেধাহীন করছে দেশের ভবিষৎ প্রজন্মকে। জাতি হয়ে পড়ছে মেরুদন্ডহীন। আমারা জানি, “শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড।” তার মানে এই নয় প্রশ্নফাঁস করবে আর বড় বড় ডিগ্রি অর্জন করবে। তাতে গুনগত শিক্ষা অন্তরালেই রয়ে যায়। একজন এসিটি শিক্ষক হিসেবে মামুনুল ইসলাম মামুন (যুগ্ম আহবায়ক, আহবায়ক কমিটি) মনে করেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, গুনগত শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। তারমতে প্রশ্নফাঁস ও নানা অপকর্মের ফলে শুধু ডিগ্রি অর্জনেই শিক্ষা পরিপূর্ন হয় না। যা বন্ধ করার জন্য সরকারকে নীতিমালা প্রনয়ন করতে হয়েছে। গুনগত শিক্ষা ও শিক্ষার মানোন্নয়ন করার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পবিত্র সংসদে বিদেশ থেকে শিক্ষক আনার প্রস্তাব করেছেন। অথচ মেধাবী মডেল শিক্ষরাই আজ অবহেলিত, বেকার হয়ে বসে আছে। যাদের অবদানে অনেকাংশে উন্নত হয়েছে শিক্ষার মান, রোধ হয়েছে শিক্ষার্থীদের ঝরেপড়া ও বাল্যবিবাহ। অথচ সেই শিক্ষকরাই চাকরির বয়সও হারিয়ে ফেলেছে শিক্ষার এই যুগান্তকারী পরিবর্তন করেতে গিয়ে, অক্লান্ত পরিশ্রম করে। সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ড. দিপুমনি এই সকল মেধাবী অতিরিক্ত শিক্ষকদের প্রশংসা করে এদের যে কোন ভাবে স্থায়ী করার আস্বাস দিয়েছেন। একই সাথে শিক্ষা বান্ধব সরকার প্রধান মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মেধাবী শিক্ষকদের চাকুরী ফিড়িয়ে দেবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন এসিটি শিক্ষক সমাজ। তার বাবার স্বপ্নের সোনার বাংলার বাস্তব রূপ দিতে শিক্ষিত মেধাবী, অভিজ্ঞরা সব সময় অগ্রগন্য। যে জাতি যত বেশি শিক্ষিত সে জাতি তত বেশি উন্নত। তাই দেশের উন্নয়নের ধারা মসৃন রাখতে দক্ষ, মেধাবীরাই সুচারু চালক।

শিক্ষা নিয়ে গড়ব দেশ,

শেখ হাসিনার বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *